সাহিত্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ধর্ম, বিবিধ

বুধবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৩

স্রষ্টা ও সৃষ্টি এবং হিন্দুধর্ম সেশন প্লান


স্রষ্টা ও সৃষ্টি এবং হিন্দুধর্ম সেশন প্লান

 অধিবেশন- ১: স্রষ্টা ও সৃষ্টি এবং হিন্দুধর্ম 

 মূলভাব : আমাদের প্রকৃতি ও পরিবেশ বৈচিত্র্যময় হলেও এর মধ্যে রয়েছে গভীর ঐক্য ও শৃঙ্খলা। ঋতুচক্রের আবর্তন, দিবা-রাত্রির পালাবদল আর গ্রহ-উপগ্রহের একই নিয়মে চলার মধ্যেও এর নিদর্শন রয়েছে। এর মূলে রয়েছেন এক সুমহান স্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রক। তিনিই
ঈশ্বর। ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। তিনি যেমন সৃষ্টি করেন, তেমনি সৃষ্টির পালন ও ধ্বংস করে সৃষ্টির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেন। তিনি জীব ও জগৎ সৃষ্টির আদি কারণ। তাঁকে জানা এবং নিজেকে জানার পাশাপাশি সৃষ্টিকে জানার ইচ্ছা থেকেই সৃষ্টিতত্ত্ব আমাদের ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। হিন্দুধর্ম মানুষের মঙ্গল এবং জীব ও জগতের কল্যাণে নিবেদিত। প্রকৃত পক্ষে ঈশ্বরে বিশ্বাস, আত্মমুক্তি ও জগতের হিত সাধন হিন্দুধর্মের মূল বৈশিষ্ট্য। হিন্দুধর্মের এ সব বৈশিষ্ট্য স্মরণ রেখে এবং ধর্মের প্রতি অনুগত থেকে হিন্দুগণ সকলের হিতে ব্রতী হন।

সময় : ১ ঘন্টা ৩০ মিনিট।

 শিখনফল : এই অধিবেশন শেষে শিক্ষার্থীগণ -
1) স্রষ্টা ও সৃষ্টি সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারবেন।
2) হিন্দুধর্মের লক্ষণ ও সাধারণ বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে পারবেন।

 উপকরণ : মাল্টিমিডিয়া, পোস্টার পেপার, মার্কার, ভিপ কার্ড, পাঠ্যপুস্তক।

 পদ্ধতি ও কৌশল : প্রশ্নোত্তর, দলীয় কাজ ও উপস্থাপন, বক্তৃতা ও পঠন।

 অধিবেশনের বিবরণ :

 কাজ-১ : স্রষ্টা ও সৃষ্টি সম্পর্কে আলোচনা                                                                                     ২০ মিনিট

  •   সংক্ষেপে কুশল বিনিময় করুন।
  •   স্রষ্টা ও সৃষ্টি সম্পর্কে ৫ মিনিট বক্তব্য দিন।
  •   মাল্টিমিডিয়ায় গ্রহ-নক্ষত্র, পাহাড়-পর্বত, নদী, সাগর প্রভৃতির নৈসর্গিক দৃশ্যের ছবি শিক্ষার্থীদের ২ মিনিট দেখান এবং প্রত্যেকের খাতায় স্রষ্টার সৃষ্টি সম্পর্কে দুটি বাক্য লিখতে দিন।
  •  কী লিখেছে একে একে সকল শিক্ষার্থীকে বলতে বলুন।
  •   অতঃপর নিম্নবর্ণিত প্রশ্ন করুন ও উত্তর আদায় করুন। প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের সহায়তা দিন।
 º এ পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণকারী কে?
 º ঈশ্বর কী কী সৃষ্টি করেছেন?
 º জীব জগতে বৈচিত্র্য, কার বৈচিত্র্য?
 º জীবের কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে?
 º ঈশ্বর প্রথম কিসের সৃষ্টি করেছেন?
 º বিষ্ণুর নাভি কমলে কে ছিলেন?
 º মধু ও কৈটভ নামে দু দৈত্যের সৃষ্টি কোথা থেকে হলো?

 কাজ-২ : ধর্ম ও ধর্মের লক্ষণ সম্পর্কে আলোচনা                                                                              ২৫ মিনিট

  •   শিক্ষার্থীদের সাথে ধর্ম কাকে বলে, ধর্মের প্রধান উদ্দেশ্য ও লক্ষণ প্রভৃতি নিয়ে ৫ মিনিট আলোচনা করুন।
  •   শিক্ষার্থীদের ৫-৬ জনের দলে বিভক্ত হয়ে এ সকল বিষয়ে আলোচনা করতে বলুন। 
  •   আলোচনা শেষে প্রশ্ন করম্নন-
 º ধর্ম কাকে বলে?
 º সনাতন শব্দের অর্থ কী?
 º সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা কে?
 º ধর্মের প্রধান উদ্দেশ্য কী?
º ধর্মের স্বরূপ ও সাধারণ লক্ষণ কাকে বলে?
 º ধর্মের মূল শিক্ষা কী?
  •   প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে ভিপ কার্ড দিন। ভিপ কার্ড বিতরণ করার পর সকল শিক্ষার্থীকে তার দেখা একজন ধার্মিক ব্যক্তির একটি করে সদগুণ লিখতে বলুন।
  •   সকলের লেখা শেষ হলে তাদের কার্ডগুলো বোর্ডে লাগিয়ে দিতে বলুন। একজন শিক্ষার্থীকে পড়ে শোনাতে বলুন। সকলের মতামতের উপর ভিত্তি করে ধর্মের স্বরূপ লক্ষণ ও বিশেষ লক্ষণ শনাক্ত করুন এবং বোর্ডে পৃথকভাবে লাগিয়ে রাখুন।

 কাজ-৩ : ধর্মের সাধারণ বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা।                                                                       ৩৫ মিনিট

  •   হিন্দু ধর্মের সাধারণ বৈশিষ্ট্য কি কি? নিজ নিজ খাতায় লিখতে বলুন। লেখা শেষ হলে একজনকে একটি করে বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করতে বলুন। ক্রমান্বয়ে সকলের নিকট থেকে বৈশিষ্ট্যগুলো জেনে বোর্ডে লিখুন। 
  •  শিক্ষার্থীদের পাঁচ দলে ভাগ করুন। প্রত্যেক দলকে পোস্টার পেপার ও মার্কার সরবরাহ করুন। পাঠ্যপুস্তক পড়ে প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের মূল পয়েন্টগুলো পোস্টার পেপারে লিখতে বলুন।
  •   সব দলকে তাদের লেখা পোস্টারগুলো কক্ষের চারদিকে টাঙ্গিয়ে রাখতে বলুন। সবাইকে ঘুরে ঘুরে দেখতে বলুন। কোন মতামত থাকলে তা কাগজে লিখে লাগিয়ে দিতে বলুন।
  •   প্লেনারিতে বসুন। শিক্ষার্থীদের মতামতের উপর মন্তব্য করুন। তাদের কোন বিষয়ের উপর অস্পষ্টতা বা সন্দেহ থাকলে তা জিজ্ঞেস করতে বলুন এভাবে বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে বিষয়ের শিখন নিশ্চিত করুন। 

কাজ-৪ : ধর্মাধর্ম নির্ণয়ের উপায় সম্পর্কে আলোচনা                                                                   ১০ মিনিট
  •   কোন কর্ম ধর্ম সঙ্গত ও কোন কর্ম ধর্ম সঙ্গত নয় তা হিন্দুধর্মে কিভাবে নির্ণয় করা হয়? প্রশ্নটি করুন।
  •   উত্তরের প্রেক্ষিতে আলোচনা করুন। মূল পয়েন্ট বোর্ডে লিখুন।
  •   পাঠ্যপুস্তকে দেওয়া তথ্যের আলোকে আলোচনা করে সাধারণীকরণ করুন।
  •   শিক্ষার্থীদের কোন অস্পষ্টতা থাকলে জিজ্ঞেস করতে বলুন 
  •  বিষয়ের সার-সংক্ষেপ বর্ণনা করে শিখন নিশ্চিত করুন 

মূল্যায়ন :                                                                                                                                 ১০ মিনিট
 অধিবেশনের বিষয়বস্ত্তর উপর কিছু প্রশ্ন করতে পারেন যা তাদের বিষয়টি নিয়ে ভাবতে উৎসাহিত করবে। যেমন:
ক) এই অধিবেশন থেকে আপনি কী শিখলেন? আপনার পেশাগত জীবনে এই শিখন কিভাবে প্রভাব ফেলবে?
খ) হিন্দুধর্মের বৈশিষ্ট্য কী?
গ) ধর্মের প্রধান উদ্দেশ্য কী?

 স্বঅনুচিন্তন : এই অধিবেশনে উপস্থাপিত বিষয়গুলো সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মতামত নিন। অধিবেশনটি অধিকতর ফলপ্রসূ করার জন্য নিচের প্রশ্নগুলোর আলোকে আপনার মতামত দিন-
  •   অধিবেশনটিতে ব্যবহৃত শিখন পদ্ধতিগুলো কতটা কার্যকর ছিল বলে মনে করেন? অন্য কোন পদ্ধতি বা কৌশল প্রয়োগের ক্ষেত্রে আপনার মতামত ব্যক্ত করুন। 
  •  শিখনফল গুলো অর্জিত হয়েছে কি-না?
  •   আপনার মতে অন্য কোন্ উপায়ে অধিবেশনটি কার্যকর করা যেতে পারে?
  •   অধিবেশনটি অধিকতর অংশগ্রহণমূলক করার ক্ষেত্রে আপনার কোন পরামর্শ থাকলে বলুন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন