সাহিত্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ধর্ম, বিবিধ

বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৩

তন্ত্রশাস্ত্র


ঈশ্বরকে আদ্যাশক্তিরূপে চিন্তা করার উপদেশ তন্ত্রশাস্ত্রে রয়েছে। ঈশ্বরের নারীরূপ ভাবনা করে তাঁকে মাতৃরূপে যাঁরা উপাসনা করেন তাদের বলা হয় শাক্ত। শাক্তগণ বিশ্বাস করেন মহামায়া বিশ্বব্যাপিনী হলেও নারীমূর্তিতে তাঁর সমধিক প্রকাশ। নারী জগদম্বারই জীবন্ত
বিগ্রহ। দেবীর অংশে নারীমাত্রেরই জন্ম। তাই প্রত্যেক নারীতে মাতৃবুদ্ধি করা এবং প্রত্যেক নারীকে দেবীমূর্তি জ্ঞানে শ্রদ্ধা করা মহামায়ার শ্রেষ্ঠ উপাসনা। এই মহামায়া তত্ত্বই তন্ত্র শাস্ত্রের প্রতিপাদ্য বিষয় । শক্তিমঙ্গল তন্ত্রানুসারে ভারতবর্ষ তিনভাগে বিভক্ত। বিন্ধ্যাচল থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত প্রদেশ বিষ্ণুক্রান্তা, বিন্ধ্যাচল থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত অশ্বক্রান্তা বা গজক্রান্তা এবং বিন্ধ্যাচল থেকে নেপাল, মহাচীন প্রভৃতি দেশ রথক্রান্তা নামে বিখ্যাত। প্রত্যেক ক্রান্তায় ৬৪ খানি করে ১৯২ খানি তন্ত্র সমগ্র ভারতে প্রচলিত রয়েছে। পরমহংস শ্রীরামকৃষ্ণের তন্ত্রসাধন অভূতপূর্ব ও সুদূর প্রসারী। ভৈববী ব্রাহ্মণীর উপদেশে তিনি বিষ্ণুক্রান্তায় প্রচলিত ৬৪ খানা তন্ত্রের সকল সাধনায় সিদ্ধ হয়েছিলেন। তন্ত্রশাস্ত্রেই শাক্ত দর্শন বিশদভাবে ব্যাখ্যাত এবং সপ্তসতী চণ্ডীতে এর পূর্ণ পরিণতি দৃষ্টি হয়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন